কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট প্রথম পাতা
ভিজিট করুন আমার নতুন ও স্হায়ী ব্লগ www.alomoy.com/

টার্নিং পয়েন্ট: আমি যেভাবে শিবির হয়ে গেলাম।

ইসলামী পরিবারে বড় হলেও একটা সময়ে এসে ইসলাম থেকে কিছুটা বিচ্যুত হয়ে যাই। এ থেকে টেনে তোলেন ডা. জাকির। তখনো শিবিরকে মনে মনে ভালো জানলেও কিছু বিষয়ে বিভ্রান্তি ছিল। ডা. জাকিরের অনুপ্রেরণায় ইসলামী বই, অর্থসহ কুরআন, সীরাত পড়া হতে লাগল। তখনি শিবিরের আন্দোলনের সাথে রাসুলের (সা.) জীবন, কর্ম ও আন্দোলনের মিল খুঁজে পেলাম। কুরআন, সাইমুম ও নসীম হিজাযীর বই পড়ে ইসলামী আন্দোলনের স্পৃহা জাগল। কিন্তু তখনো মনে খটকা ছিল ৭১- ইস্যু ও বিএনপির সাথে জোট নিয়ে।
একবার জামায়াতের এক অতি-পরিচিত ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম জোটের ব্যাপারে। তিন বললেন ,"আমার মতে ঠিক হয়নি"। হোঁচট খেলাম। পরবর্তীতে আরেকজন ভাইকে জিজ্ঞেস করে এ ব্যাপারে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পেলাম।

বাকী থাকল-৭১: এ ব্যাপারে চোখ ব্যাপকভাবে খোলা শুরু হলো ২০১১ সালের মনমোহনের সফরের সময়। আমাদের অধীকার তিস্তা চুক্তি হলোনা, কিন্তু তাদের ভিক্ষা ট্রানজিট গোপনে দিয়ে দেওয়া হলো। আ'লীগকে আরো ভালোমতো চিনতে লাগলাম। আমাদের ছিটমহল ইস্যু সমাধান করা হলোনা। ওদিকে টিপাইমুখ ইস্যুতে সরকার নিরব। এরাই নাকি তথাকথিত দেশপ্রেমিক মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি। কিছুদিন পরই শুনলাম ট্রানজিট দেবার জন্যে তিতাস নদীর উপর বাঁধ দিয়ে ঐ অঞ্চলকে ধবংস করা হচ্ছে। বিভিন্ প্রসংগে ফারাক্কার ব্যাপারেও জানলাম। ওদিকে বিএসএফ দিনের পর দিন নির্বিচারে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষকে পাশবিক কায়দায় অত্যাচার চালাচ্ছে। সরকার ও ব্যাপারে নিরব। 

ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে যুদ্ধাপরাধের বিচার। পাকি ১৯৫ জন সমারিক বাহিনীর বিচার না করে দোসরদের বিচার করা হচ্ছে তাও ৭১- পরবর্তী সময়ে করা বিচারে যাদের নামও আসামীর তালিকায় ছিলনা। এটাকি আ"লীগের দেশপ্রেম না বিরোধী-নিধন বুঝতে বাকী থাকলনা। বিচার শুরু হলে দেখা গেল সাক্ষীরা নিজেরাই বিভিন্ন ভয়ানক মামলার আসামী!! সবচেয়ে বড় কথা যাদের বিচার করা হচ্ছে আমি ইতোমধ্যেই তাঁদের অনেকগুলো বই পড়েছি। তাঁদের বই পড়ে নিজের নৈতিকতা গড়তে সহায়তা পাচ্ছি। আল্লাহ সব দেখেন -এ কথায় ও পরকালে বিশ্বাসী ব্যক্তি কখনোই অনৈতিক কাজ করতে পারেননা। 

পরবর্তীতে অধ্যাপক গোলাম আযমের সাক্ষাৎকারে ৭১- ইস্যু নিয়ে পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গি পেয়ে গেলাম যা একজন সত্যানসন্ধানীকে সত্যোপলদ্ধি করিয়ে দেবার জন্যে যথেষ্ট। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র থেকেও অনেক চিন্তার খোরাক পেলাম।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের প্রতি তথাকথিত দেশপ্রেমিক দলের আচরণ -সব মিলিয়ে শিবিরের উপর থেকে এ ধরণের ভুল ধারণা চলে গেল।
এবার দেখলাম শিবিরের কর্মপদ্ধতি, কর্মকৌশল, নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃংখ্যল সাংগঠনিক কাঠামো। সমাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, সাহিত্য, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রকে ইসলামীকীকরণের প্রচেষ্টা।
মূলত ইসলামী বিপ্লবতো আর হৈচৈ বা উত্তেজনা করে হয়ে যাবেনা। বরং একটা সমাজকে পরিপূর্ণরূপে ইসলাম অনুযায়ী ঢেলে সাজাতে হলে উপরের সব ক্ষেত্রকে ইসলামীকীকরণ করতে হবে।


রিপোর্ট রাখার সিস্টেমতো এককথায় অসাধারণ। একজন ছাত্রকে ভালো মুসলিম ও ভালে্ ছাত্র হিসেবে গড়তে এর ভূমিকা অনন্য। কেউ যদি নিয়মিত কুরআন, হাদিস, ইসলামী বই, পাঠ্যবই, নিউজপেপার পড়া চালিয়ে যায়, করে শরীরচর্চা ও আত্মসমালোচনা সে অবশ্যই সুপথ প্রাপ্তির পথেই থাকবে।

যাইহোক, অবশেষে শামিল হয়ে গেলাম শিবিরে। এলাকার ভাইদের সাথে যোগাযোগ করতে থাকলাম। অবশেষে ৩০ মার্চ ২০১২ সাথী শপথ নিলাম। অবশ্য স্কুল জীবনেই শিবিরে কিছুটা জড়িত ছিলাম। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের অপরিহার্যতা না বোঝা ও অপপ্রচারের কারণে বিভ্রান্ত হয়ে ছিলাম। ফলে বিচ্যুত হয়ে যাই। ২০১১ সাল থেকেই ব্লগে আমার মতামত দেখে হয়তো আমাকে অনেকে শিবির মনে করত। এর কারণ হচ্ছে তখন আমার মানসিকতা পরিবর্তন হচ্ছিল পাশাপাশি শিবির যেহেতু সত্যের যাত্রী তাই বিভিন্ন সত্য যুক্তি আপনাআপনি তাদের পক্ষে যাচ্ছিল।
 
[শিবির হবার পেছনে আরো অনেক উদ্দীপকই কাজ করেছে, সব গুছিয়ে বলা সম্ভব হয়নি]
আজীবন যেন ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে কাজ করে যেতে পারি এই প্রার্থনা আল্লাহর কাছে, আমীন।

0 মন্তব্য:

একটি নতুন মন্তব্য যোগ করুন

মন্তব্যে ইউটিউব ভিডিও যোগ করতে [youtube]YOUTUBE-VIDEO-URL[/youtube] ও ছবি দিতে [img]IMAGE-URL[/img] কোড বসান

যুদ্ধাপরাধের বিচার

সকল পোস্ট

ইমেইলে গ্রাহক হোন

আসসালামু আলাইকুম। এই ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। ব্লগটি পছন্দ হলে একে ছড়িয়ে দিতে লাইক দিন। নির্দিষ্ট কোন পোস্ট সোশ্যাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করতে পোস্টে পবেশের পর সোশ্যাল শেয়ার আইকনে ক্লিক করুন। ব্লগটির মানোন্নয়নে আপনার সুচিন্তিত পরামর্শ দিতে পারেন। (ক্লিক করুন)
 
 
 

ভিডিও গ্যালারি

ছাত্রলীগ

সকল পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগ-ফেসবুক

sharethis

ছাত্রসংবাদ