কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট প্রথম পাতা
ভিজিট করুন আমার নতুন ও স্হায়ী ব্লগ www.alomoy.com/

জবাব: জামায়াত বিএনপির সাথে ঐক্য করল কেন?

বর্তমানে অনেকেই জামায়াত-শিবিরকে মন থেকে ভালোবাসে। কিন্তু সংগঠনে আসার দাওয়াত দিলেই সাধারণত যে প্রশ্নটির মুখোমুখি হতে হয় সেটি হল ইসলামী সংগঠনটি কেন নারী নেতৃত্ব মেনে নিল? মিডিয়ায় ও ইন্টারনেটেও বিষয়টা বেশ আলোচিত। কট্টর কিছু বিরুদ্ধবাদীরা আবার বিষয়টির উপর রং লাগিয়ে এমনভাবে উপস্হাপন করে যাতে এ জোটের কারণে জামায়াতকে একেবারে নিকৃষ্ট নর্দমার কীটের মত মনে হয়।
কিন্তু আসলে ব্যাপারটা কি? কেন এই সিদ্ধান্ত। আসুন খোলা মনে একটু বিচার বিশ্লেষণ করি।
একথা সুস্পষ্ট যে ইসলামে বিভিন্ন যৌক্তিক ও বিজ্ঞানসম্মত কারণেই নারী নেতৃত্ব হারাম। এবার এ জোটবদ্ধতাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করি-
১. খালেদা জিয়া কি জামায়াতের নেত্রী?
ক. জামায়াতে ইসলাম বিএনপির সাথে জোট করেছে বলেই কি দুটো দল এক হয়ে গেল যে এখন খালেদা জিয়াই দুই দলের সমন্বয়ে গঠিত মিশ্রিত দলের একক নেত্রী?
খ. জামায়াত কি নিজেদের প্রোগামাদি খালেদা জিয়ার কথামত পরিচালনা করে?- কখন কুরআন তালিম হবে নাকি আদৌ হবেনা, কর্মী বৈঠক কখন হবে রোকন সম্মেলন কখন, কোথায় হবে এগুলো কি খালেদা জিয়ার কথামতো চলে? জামায়াত কীভাবে দাওয়াতি কাজ করবে নাকি আদৌ করবেনা, কোথায়, কতবার ইফতার মাহফিল করবে, কাকে কোন শাখার দায়িত্বে নিয়োজিত করবে-এ কাজগুলো কি খালেদা জিয়ার কথামতো চলে?(সরকারের বিভিন্ন অন্যায়, অপকর্মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, সমাবেশ ইত্যাদি খালেদা জিয়ার একক নির্দেশে হয়না, বরং জোটের আলোচনার মাধ্যমে হয়।)

২. ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে
ক. এ কথা নি:সন্দেহ যে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ কোন দলই ভাল (ইসলামপন্থী) নয়। তাদের আদর্শ যথাক্রমে জিয়া ও শেখ মুজিব। কোন মানুষের আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কোন মুসলিমের চালানো উচিৎ নয় যদিনা মানুষটি হন ওহীপ্রাপ্ত (আমাদের জন্যে যিনি হযরত মুহাম্মাদ সা.) ।
খ. কিন্তু একটু সচেতন হয়ে চিন্তা করলেই বোঝা যাবে দলদুটির দুটিই খারাপ হলেও ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিএনপি নিরপেক্ষ। তারা ইসলামের ক্ষতিও করেনা উপকারও করেনা (অবশ্য জিয়াউর রহমান সংবিধানে আল্লাহর উপর আস্হা-কথাটি যোগ করেছিলেন-কেন কে জানে?)। কিন্তু আওয়ামী লীগ ইসলামের প্রকাশ্য শত্রু।
গ. আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই ইসলামের উপর হামলা চালিয়েছে। সেই ৯৬-এ ক্ষমতায় এসে তারা অসংখ্য মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়, অনেক মাদ্রাসার এমপিও বন্ধ করে দেয়। বায়তুল মোকাররম মসজিদে মুসল্লিদের পিটিয়ে  রক্তাক্ত করে দেয়। ২০০৮ এর ডিসেম্বরে ক্ষমতায় এসেও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে একের পর এক ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড চালাতে থাকে।
সংবিধান থেকে ’বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ তুলে দেয়। তুলে দেয় আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ আস্হা ও বিশ্বাস। এ ঘটনার পর কোন এক বুদ্ধিজীবি আক্ষেপ করে বলেছিলেনও যে ‘তাহলে আমরা কার উপর আস্হা রাখব, শয়তানের উপর?’ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বোরকা ও টুপি পরতে বলা যাবেনা বলে আইন করে। অনেকেই তখন বলেছিলেন আস্তে আস্তে আগাচ্ছে আরকি। পরে নিশ্চয়ই বোরকাই নিষিদ্ধ করবে। তারা কুরআন বিরোধী নারী নীতি করে যেখানে কুরআনের আইন লঙ্গণ করে নারীকেও পিতার সম্পত্তিতে পুরুষের সমান দেবার নীতি অন্তর্ভূক্ত হয়। অথচ ইসলামী উত্তরাধীকার আইন মোটেই নারীকে বঞ্চিত করেনা। কারণ সে পায় বিভিন্ন উৎস থেকে যত উৎস ছেলে সন্তানদের নেই।
সম্প্রতি চিটিগাং নার্সিং কলেজে নামাজ ঘরে তালা দেওয়া হয়, কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আওয়ামী লীগ আন্তঃধর্ম বিবাহকে জায়েয করতে যাচ্ছে যা কুরআন বিরোধী এবং বাস্তবতা এবং সমাজ সংস্কৃতিরও পরিপন্থী।
অন্য পোস্টে তাদের ইসলাম-বিরোধীতা  বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে।
ঘ. অতএব জামায়াত ২০০১ এ চিন্তা করল যদি জোট করা না হয় তাহলে আওয়ামী লীগ নিশ্চিত ক্ষমতায় এসে যাচ্ছে। জোট না করলে ও মন্দ করলেও মন্দই তবে সেটা অপেক্ষাকৃত কম মন্দ।
ঙ. একসময় স্পেন ছিল ইসলামের গৌরব। কিন্তু দিন দিন শাসকদের মধ্যে কিছু হয়ে পড়ল অমুসলিম খ্রিষ্টানদের অনুগত। ইসলামের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থই তাদের কাছে বড় ছিল। এটাও স্পেনে বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। বর্তমান সরকার ও ভারতের অনুগত। এদিক দিয়ে চিন্তা করলেও বিএনপি অপেক্ষাকৃত কম মন্দ। কারণ তারা কোন দেশের এমন অন্ধ-অনুগত নয়। আওয়ামী সরকার ইসলামের বিরুদ্ধে যেভাবে এগুচ্ছে তাতে তাদেরকে কৌশলে না ঠেকালে তারা ধারাবাহিকভাবে ইসলামকে এ দেশ থেকে নিশ্চিহ্নই করে ফেলার চক্রান্ত করছে। আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীও ঘোষণা দেয়, “সংবিধান থেকে ধর্মের কালো ছায়াও আমরা মুছে ফেলবো।”
এ থেকেই তাদের চক্রান্ত বুঝা যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে তাদের এ হীন চক্রান্ত নস্যাৎ করা ঈমানী দায়িত্ব।
চ. এ জন্যেই অপেক্ষাকৃত কম মন্দের সাথে থেকে অধিক মন্দকে মোকাবেলা করার জন্যই জোট। এক্ষেত্রে সেই আখচাষীর গল্পটাও উল্লেখযোগ্য। চাষী দেখল তার ক্ষেতে তিনজন চোর। একজন নিজগ্রামের, অপরজন পাশের শহরের ও অন্যজন অন্য শহরের। তখন সে দূরের লোকটিকে বলল এরা অোমার পাশের লোক, তারা আখ খেয়েছে তাতে কিছু হয়নি, কিন্তু তুমি খেলে কেন একথা বলে অন্য দুইজনকে নিয়ে তাকে শাস্তি দিল। পরে পাশের গ্রামের লোকটিকেও শাস্তি দিল এভাবে। শেষে নিজগ্রামের লোককে বলল ওরা দূরের লোক, না বুঝে খেয়েছে। কিন্তু তুমি আমার ঘনিষ্ঠ হয়েও কেন ক্ষতি করলে। এবার তাকেও শাস্তি দিল।

৩. জোটের কিছু সুফলঃ
ক. আমাদের গ্রামের বাজারে জোট সরকারের আমলে অশ্লীল সিডি-ভিসিড ছিলনা। তখনই আ’লীগের লোকেরা ঘোষণা দিয়েছিল  “এ সরকার যাক, সিডি নিয়ে আসব”। আর এখন সেখানে সারাদিন চলে অশ্লীল সিডি-ভিসিডি যা মানুষকে মসজিদে যেতে বাধা দেয়। দোকানীরা করে হারাম উপার্জন।
খ. আওয়ামী সরকারের আমলে করা বিভিন্ন অনৈসলামিক আইন ও নীতি রদ করা।
গ. জোট করার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে অন্তত দুজন সৎ ও ইসলামপন্থী মন্ত্রীকে বসানো গেছে যারা অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। চালুনী দিয়ে ছেঁকেও তাদের কোন দুর্নীতি বের করা যায়নি।

৪. ইসলামের ইতিহাসে নজীরঃ
ক. হুদায়বিয়ার সন্ধির অন্যতম লাভ ছিল মক্কার সাথে যুদ্ধ-যুদ্ধ অবস্হার বিরতি। ফলে মক্কার লোকের মদীনায় যাবার সুযোগ পাওয়ায় ইসলামকে বোঝার সুযোগ পেল। অন্যদিকে বাইরের শত্রুকে সহজে মোকাবেলা করা গেল। ফলে সহজেই বিভিন্ন এলাকা যেমন খাইবার বিজিত হল। এবং সন্ধির সময়ে যেখানে ১৪০০ মুসলিম ছিলেন সেখানে মক্কা বিজয়ের সময় এ সংখ্যা  ছিল ১০,০০০। বর্তমানেও বিএনপিকে থামিয়ে সহজেই আ’লীগকে মোকাবেলা করা যাচেছ। অন্যদিকে সহজেই মেলামেশার ফলে দাওয়াতী কাজও করা যাচেছ।
খ. রাসুল সা. মদীনা রাষ্ট্র গঠন করেছিলেন ইহুদীদেরকেও অন্তর্ভূক্ত করে। এর প্রয়োজন ছিল। কারণ ইহুদীদের বশে রাখতে ও মদীনাকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে এর প্রয়োজন ছিল।
গ. ইসলামের মাক্কী যুগে তৎকালীন দুই সাম্রাজ্য পারস্য সাম্রাজ্য ও রোম সাম্রাজ্য যুদ্ধে লিপ্ত হলে রাসুল সা. রোম সাম্রাজ্যের পক্ষাবলম্বন করেন। কারণ পারস্য সাম্রাজ্য ছিল অগ্নিপূজক আর রোমসাম্রাজ্য ছিল খ্রিষ্টান। দুটোই মন্দ হলেও খ্রিষ্টানরা অপেক্ষাকৃত কম মন্দ। কুরআনে বলা হয়েছে (সুরা মায়েদা,৫:৮৩) খ্রিস্টানরা তুলনামূলকভাবে অন্যদের চেয়ে মুসলিমদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল।
ঘ. রাসুল সা. এর চাচা আবু তালিব ইসলাম গ্রহণ করেননি। কিন্তু তিনি রাসুল সা.কে বিভিন্ন সময় সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। এ সাহায্য বিরোধীদের বিরুদ্ধে সহায়ক ছিল বিধায় সাহায্য নেয়া হত।


0 মন্তব্য:

একটি নতুন মন্তব্য যোগ করুন

মন্তব্যে ইউটিউব ভিডিও যোগ করতে [youtube]YOUTUBE-VIDEO-URL[/youtube] ও ছবি দিতে [img]IMAGE-URL[/img] কোড বসান

যুদ্ধাপরাধের বিচার

সকল পোস্ট

ইমেইলে গ্রাহক হোন

আসসালামু আলাইকুম। এই ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। ব্লগটি পছন্দ হলে একে ছড়িয়ে দিতে লাইক দিন। নির্দিষ্ট কোন পোস্ট সোশ্যাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করতে পোস্টে পবেশের পর সোশ্যাল শেয়ার আইকনে ক্লিক করুন। ব্লগটির মানোন্নয়নে আপনার সুচিন্তিত পরামর্শ দিতে পারেন। (ক্লিক করুন)
 
 
 

ভিডিও গ্যালারি

ছাত্রলীগ

সকল পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগ-ফেসবুক

sharethis

ছাত্রসংবাদ