কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট প্রথম পাতা
ভিজিট করুন আমার নতুন ও স্হায়ী ব্লগ www.alomoy.com/

মানুষকে শুধু আল্লাহর বড়াই বড়ত্বের কথা ও পবিত্রতা ঘোষণার জন্যে সৃষ্টি করা হয়নি।

বর্তমানে কিছু মুসলিম আছেন যারা মনে করেন মুসলিমদের কাজ হচ্ছে মসজিদে বসে শুধু আল্লাহর বড়াই বড়ত্বের কথা বলে যাওয়া ও তাঁর প্রশংসা ও তাসবীহ পাঠ করে যাওয়া। আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় এটাই মুমিন জীবনের সাধনা হওয়া উচিত।
কুরআনে আমরা পাই-
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ
(আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, 'নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না'। সুরা আল বাকারা;২:৩0)
যখন ফেরেশতারা বলল আমরাইতো আপনার বড়াই বড়ত্বের কথা ও পবিত্রতা ঘোষণা করছি, তখন আল্লাহ বললেন, “আমি যা জানি তোমরা তা জাননা”
অর্থ্যাৎ আমার মানুষ সৃষ্টির পেছনে উদ্দেশ্য এ নয় তারা শুধু  আমার বড়ত্বের কথা ও পবিত্রতা ঘোষণা  করে যাবে।  এ আয়াতে দেখা যায় মানুষকে বানানো হবে খলীফা। 
এখন খলীফার কাজ কী? খলীফা বা প্রতিনিধির কাজ হচ্ছে মনিবের পক্ষ থেকে কোন কাজ, দায়িত্ব বা আইন মনিবের দেওয়া হুকুম অনুসারে মুনবের অনুমতিক্রমে  করে দেওয়া।
আমরা জানি এ মহাবিশ্বের ব্যাবস্হাপনায় আল্লাহ নিজের দায়িত্বে শান্তি ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা কায়েম করে রেখেছেন। যার ফলে মহাবিশ্ব হয়ে আছে এক অমোঘ নিয়মাধীন। এ ব্যাবস্থায় কোন বিশৃংখ্যলা বা নৈরাজ্য ঘটছেনা। এতো গেল  ফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ড এর কথা। কিন্তু মোরাল ওয়ার্ল্ড বা নৈতিক পৃথিবীর খবর কী? সেখানে কি শান্তি বিরাজিত ও নৈরাজ্য মুক্ত?
সহজ উত্তর না। কেন ? সেটারও উত্তর সহজ। আল্লাহ নিজের সৃষ্ট মহাবিশ্বে নিজের প্রদত্ত আইন ‘মহাবিশ্বের বস্তুদের ইচ্ছায়,অনিচ্ছায় কায়েম করে রেখেছেন”(সুরা হামিম আস সাজদা,১২) এবং সবকিছু তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ করেছে (সুরা আলে ইমরান ৮৩) বলে সেখানে নৈরাজ্য নেই। কিন্তু নৈতিকতার জগতে তিনি তাঁর আইনকে মানুষের উপর চাপিয়ে দেননি। মানুষের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু একপক্ষকে দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁর দেওয়া আইনগুলোর বাস্তবায়নের জন্যে খলীফা হবার জন্যে। অর্থ্যাৎ মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে মানবজীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর দেওয়া বিধানের বাস্তবায়নের প্রচষ্টা চালিয়ে  মহাবিশ্বে যেমন শান্তি বিরাজ করছে তেমনি নৈতিক জগতেও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
কিন্তু কতক মুসলিম এ দায়িত অস্বীকার করেন। তারা বলেন ইসলামের কিছু ইবাদাত যেমন নামায রোজা করতে থাকাই অর্থ্যাৎ ব্যাক্তিগতভাবে ইসলাম মানতে থাকলেই চলবে, অসম্ভব নয় সবাই একদিন ইসলাম মেনে চলবে।

মনে রাখতে হবে আল্লাহ জানেন মানুষের ব্যাক্তিজীবনে নামাজ রোজা ইত্যাদি করলে পরিণামে মানুষেরই ভালো হবে। তাই তিনি এ বিধানাবলী দিলেন। এখন যিনি জানেন কীভাবে মানুষের ব্যক্তিকজীবনে সাফল্য আসবে তিনি কি জানেননা কীভাবে মানুষের সামগ্রিক জীবনে তথা পারবিারিক, সামাজিক, বিচারিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক জীবনে কীভাবে সমৃদ্ধি আসবে? (নাউজুবিল্লাহ)
মূলত ৯০ ভাগ মুসলিমের দেশে যতদিন কুরআন মোতাবেক আদালত, সংসদ, অর্থনীতি সব চলবেনা ততদিন কুরআন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নিয়মতান্ত্রিকভাবে করে যেতে হবে।

0 মন্তব্য:

একটি নতুন মন্তব্য যোগ করুন

মন্তব্যে ইউটিউব ভিডিও যোগ করতে [youtube]YOUTUBE-VIDEO-URL[/youtube] ও ছবি দিতে [img]IMAGE-URL[/img] কোড বসান

যুদ্ধাপরাধের বিচার

সকল পোস্ট

ইমেইলে গ্রাহক হোন

আসসালামু আলাইকুম। এই ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। ব্লগটি পছন্দ হলে একে ছড়িয়ে দিতে লাইক দিন। নির্দিষ্ট কোন পোস্ট সোশ্যাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করতে পোস্টে পবেশের পর সোশ্যাল শেয়ার আইকনে ক্লিক করুন। ব্লগটির মানোন্নয়নে আপনার সুচিন্তিত পরামর্শ দিতে পারেন। (ক্লিক করুন)
 
 
 

ভিডিও গ্যালারি

ছাত্রলীগ

সকল পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগ-ফেসবুক

sharethis

ছাত্রসংবাদ