কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট প্রথম পাতা
ভিজিট করুন আমার নতুন ও স্হায়ী ব্লগ www.alomoy.com/

তাবলীগ একটি সংগঠন বটে আন্দোলন নয়

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। মানব রচিত কোন জীবন বিধান মানুষকে স্থিতিশীল শান্তি দিতে পারবে না। সকল বিবেকবান মানুষই স্বীকার করে, জানে ইসলাম শান্তি দেয়। কিন্তু শীত লাগলে যেমন লেপ, তোষক বলে চিৎকার করলে শীত চলে যাবে না তেমনি ইসলাম মানুষের জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত না থাকলে ইসলামের শান্তিও প্রত্যক্ষ করা যাবে না।
ইসলামের বুনিয়াদি ফরজগুলির পাশাপাশি সংগঠন করা তথা সংঘবদ্ধ জীবন যাপন(কুরআনঃ ৩:১০৩, ৬১:৪ ইত্যাদি) এবং ইসলামকে জীবনের সকল বিভাগে প্রতিষ্ঠার আন্দোলন (কুরআন ৪২:১৩, ৪:৭৫ ইত্যাদি) অন্যতম।
এক্ষেত্রে তাবলীগ জামাত একটি সংগঠনে আবদ্ধ আছে কিন্তু কোন জিহাদী তথা বিপ্লবী চেতনা নেই। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের মতই তাদের সুর অনেকটা এমন -ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার । তারমানে দাঁড়ায় আল্লাহ যিনি সকল বিষয়ে জ্ঞানের অধিকারী তিনি শুধু মানুষের ব্যক্তিজীবন পরিচালনার ব্যাপারে বিধান দিতে পারেন কিন্তু সামষ্টিক বিধান তথা সমাজ, অর্থব্যাবস্থা, আইন, আদালত, সংসদ ইত্যাদি কিভাবে চলবে সে বিধান আল্লাহ দিতে অক্ষম (নাউজুবিল্লাহ)।
ইসলামে এসেছে মানুষে মানুষে সকল ভেদাভেদ মিটিয়ে দিতে- ধনী -গরীব, কালো-সাদা, মনিব-দাস ইত্যাদির বৈষম্য। কিন্তু আল্লাহর দেওয়া বিধান মোতাবেক রাষ্ট্র পরিচালিত না হলে কেমন করে একটি সমাজ পাওয়া যাবে যেখানে এ বৈষম্য থাকবে না, যেখানে শাসক ও দাস পালাক্রমে উটের পিঠে বসবে ও রশি টানবে?
ইসলাম এসেছে মজলুম ও বঞ্চিত মানবতাকে স্বৈরাচারী ও জালিম শাসকের কেবল থেকে মুক্তি দিতে। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত না হলে , ইসলামী আইন ও বিধান কায়েম না হলে (যেমন যাকাত, শ্রমনীতি) কীভাবে বঞ্চিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে? এ জন্যেই আল্লাহ বলেন- (সুরা আন নিসা , ৪:৭৫)
তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ,
নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ
থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা জালিম! আর তোমার পক্ষ
থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে
আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।


নবীদের ইতিহাস বলে যখনই তাঁরা ইসলামের দাওয়াত প্রচার করেছেন তখনই সমকালীন অনৈসলমী শাসকের ক্রোশ ও অত্যাচার, বাধার মুখে পড়েছেন। রাসুলুল্লাহর আগমন ও দাওয়াত উদ্বেগেরে কারণ হয়েছিল সমকালীন দুই পরাশক্তি পারস্যের কিসরা ও রোমের কায়সারের। ইসলাম ও জাহেলিয়াতের চিরন্তন দ্বন্দ এ উদ্বেগ সব যুগে ইসলাম বিরোধী শাসকেদের উৎকন্ঠায় রাখবে। তাই তারা ইসলাম-প্রতিষ্ঠাকামীদের উপর চালাবে নির্যাতনের স্টিম রোলার।
কিন্তু এই নির্যাতন ভেদ করেই বেরিয়ে আসবে আল্লাহর ওয়াদা ( দ্বীন বিজয়ী করা-কুরআন ৬১:৯, ৯:৩৩) বাস্তবায়ন করবার মত যোগ্য ও পরীক্ষিত সব জনশক্তি।

পরিশেষে বলি- নামায রোজাকে যেমন أَقِيمُوا বলে প্রতিষ্ঠা করা (নিছক নিজে পড়া নয়) ফরয করা হয়েছে তেমনি সূরা শূয়ারায় أَقِيمُوا বলেই দ্বীনকেও প্রতিষ্ঠা করা ফরযের মধ্যে শামিল করা হয়েছে। (সূরা শূয়ারা, ৪২:১৩)
তাই শুধু ঘরে, মসজিদে বসে আল্লাহ বড় বলে যাওয়া তথা তাসবিহ টেপা যথেষ্ট নয় আল্লাহ যে সত্যিই বড় . সেটা আল্লাহর আইন প্রয়োগ করিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে-তাই চাই নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম।
 Click this link...

1 মন্তব্য:

Md Monir Husain বলেছেন...

ধন্যবাদ! এ ধরনের সুন্দর লেখা আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য ।

একটি নতুন মন্তব্য যোগ করুন

মন্তব্যে ইউটিউব ভিডিও যোগ করতে [youtube]YOUTUBE-VIDEO-URL[/youtube] ও ছবি দিতে [img]IMAGE-URL[/img] কোড বসান

যুদ্ধাপরাধের বিচার

সকল পোস্ট

ইমেইলে গ্রাহক হোন

আসসালামু আলাইকুম। এই ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। ব্লগটি পছন্দ হলে একে ছড়িয়ে দিতে লাইক দিন। নির্দিষ্ট কোন পোস্ট সোশ্যাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করতে পোস্টে পবেশের পর সোশ্যাল শেয়ার আইকনে ক্লিক করুন। ব্লগটির মানোন্নয়নে আপনার সুচিন্তিত পরামর্শ দিতে পারেন। (ক্লিক করুন)
 
 
 

ভিডিও গ্যালারি

ছাত্রলীগ

সকল পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগ-ফেসবুক

sharethis

ছাত্রসংবাদ