কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট প্রথম পাতা
ভিজিট করুন আমার নতুন ও স্হায়ী ব্লগ www.alomoy.com/

যে দুই অভিযোগে ফাঁসির আদেশ দেয়া হলো মাওলানা সাঈদীকে তার দুটিই অপ্রমাণিত ও বেকসুর খালাস পাবার মতো

 আমার দেশে প্রকাশিত রিপোর্টটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো-
যে দুটি হত্যার অভিযোগে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে, তার একটি হলো মুক্তিযুদ্ধের সময় সাঈদীর উপস্থিতিতে বিশা বালীকে হত্যা করা। আর একটি হলো ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা করা। সেই নিহত বিশা বালীর ছোট ভাই সুখরঞ্জন বালী ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন মাওলানা সাঈদী তার ভাইয়ের হত্যার সঙ্গে জড়িত নয়—এ সাক্ষ্য দিতে। সেদিন আদালতের গেট থেকে সাদা পোশাকধারী ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। পরে তার স্ত্রী গণমাধ্যমের কাছে জানান, তার স্বামী মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন। আর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম তার স্বামী ও ভাই সাহেব আলী হত্যার বিচার চেয়ে একটি মামলা করেন। সে মামলায় ১৩ জনকে আসামি করেছিলেন; তবে সে আসামির তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। ওই ঘটনা ঘটেছে ১ অক্টোবর। সরকারপক্ষ দেখিয়েছে, তাকে মে মাসে হত্যা করেছে। তার নিকটাত্মীয় বা তার স্ত্রীসহ কাউকে এ মামলায় সাক্ষী করা হয়নি। তার স্ত্রী এখনও বেঁচে আছেন। তাকেও সাক্ষ্য দেয়ার সুযোগ দেয়নি সরকার।
সুখরঞ্জন বালী যা বলতে চেয়েছিলেন ট্রাইব্যুনালে : বিশা বালী হত্যার বিষয়ে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে পিরোজপুরের উমেদপুর গ্রামে বিশা বালী নামে এক ব্যক্তিকে নারকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে মাওলানা সাঈদীর নির্দেশ এবং তার উপস্থিতিতে হত্যা করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রদত্ত রায়ে বলা হয়েছে, এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং মাওলানা সাঈদীকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, উমেদপুর গ্রামে বিশা বালী নামে একজন ধরা পড়ার পর তাকে নারকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে সাঈদীর সহায়তায় অন্য রাজাকাররা গুলি করে হত্যা করে।
বিশা বালীর ছোট ভাই সুখরঞ্জন বালী ট্রাইব্যুনালে বলতে চেয়েছিলেন, তার ভাইকে মাওলানা সাঈদী হত্যা করেননি। পাকিস্তান আর্মি এবং স্থানীয় রাজাকাররা তার ভাইকে ধরে নিয়ে বলেশ্বর নদীর তীরে হত্যা করে। মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা জানান, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যে ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে, তাতেও এক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে বিশা বালীকে বলেশ্বর নদীর তীরে হত্যা করা হয়।
৫ নভেম্বর অপহরণের আগে সুখরঞ্জন বালীর গ্রহণ করা সাক্ষাত্কার দৈনিক আমার দেশ-এ ছাপা হয়েছিল ৬ নভেম্বর। আমার দেশ পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাত্কারে সুখরঞ্জন বালী বলেছিলেন, ‘সাঈদী সাইব মোর ভাই বিশা বালীকে খুন করে নাই, এডা ডাহা মিথ্যা কতা। মুই মোর ভাইর মরণ লইয়া এই রহমের মিত্যা কতা কইতে পারমু না।’
তিনি আমার দেশকে বলেছিলেন, ‘মামলার বাদী মাহবুবুল আলম হাওলাদার আমাকে বলতে বলে, সাঈদী সাহেব ছিল—এ কথা বলবা। আমাকে দিয়া তারা মিথ্যা কথা বলানোর চেষ্টা করছে। তাতে রাজি না হওয়ায় আমারে তারা আনে নাই। আমিও হেদিকে যাই নাই।’
সুখরঞ্জন বালী বলেন, পাকসেনারা আমার অসুস্থ ভাই বিশা বালীকে ঘর থেকে বের করে উঠানে এনে বেঁধে রেখে আমাদের ঘরসহ আরও ১৫-১৬টি হিন্দুবাড়িতে আগুন দেয়। পরে তারা আমার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরদিকে হিন্দুপাড়ায় যায়। আমরা কিছুক্ষণ পরে দেখি ধোঁয়া উড়ছে। বিকালে সংবাদ পাই হোগলাবুনিয়া হিন্দুপাড়ার পাঁচ-ছয়জন হিন্দু ও আমার বড় ভাই বিশা বালীকে পিরোজপুরে নিয়ে যায়। সেখানেও সাঈদী সাহেব ছিলেন—এ কথা কেউ বলেননি। তিনি বলেন, পরদিন সকালবেলা শুনি বলেশ্বর নদীর পাড়ে নিয়ে গুলি করে তাদের হত্যা করে পাকসেনারা। সেখানেও সাঈদী সাহেবের কথা শুনিনি। আমার ভাইয়ের হত্যার সঙ্গে সাঈদী সাহেব কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। এত বছরে আমার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে মাওলানা সাঈদী জড়িত ছিলেন বলে আমরা শুনতে পাইনি। তাকে আমরা চিনি। তিনি ওয়াজ মাহফিল করতেন। আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক হলেও তাকে পছন্দ করি। আমার ভাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত থাকলে আমরা আগ বাড়িয়ে এসেই সাক্ষী দিতাম।
মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে আদালতে হাজির করা সম্ভব নয় বলে সরকারপক্ষ যে ৪৬ সাক্ষীর তালিকা জমা দিয়েছিল, তার মধ্যে সুখরঞ্জন বালীর নাম ছিল। যে ১৫ সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে তাদের জবানবন্দি ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তার তালিকায়ও সুখরঞ্জন বালীর নাম ছিল। সেই সুখরঞ্জন বালী এসেছিলেন মাওলানা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে। এসেই গুমের শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় হাইকোর্ট বিভাগে রিট পর্যন্ত হয়েছিল।
ইব্রাহিম কুট্টি হত্যা মামলায় যা ছিল : বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম তার স্বামী ও ভাই সাহেব আলী হত্যার বিচার চেয়ে একটি মামলা করেন। সে মামলার এজাহারে মমতাজ বেগম উল্লেখ করেছিলেন, তার স্বামী ইব্রাহিম কুট্টি বাপের বাড়ি নলবুনিয়ায় থাকা অবস্থায় শান্তি কমিটির লোকজন এবং পাকিস্তান আর্মি তাকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনাটি ঘটে ১৯৭১ সালের ১ অক্টোবর। ওই ঘটনার সময় তাদের বাড়ি থেকে তার ভাই সাহেব আলী ও মা সিতারা বেগমকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় পিরোজপুরে। পরে মাকে ছেড়ে দেয়া হলেও ভাই সাহেব আলীকে ছাড়া হয়নি। তাকে পাকিস্তান আর্মি গুলি করে হত্যা করে। মমতাজ বেগম সে মামলায় ১৩ জনকে আসামি করেছেন; তবে সেসব আসামির তালিকায়ও মাওলানা সাঈদীর নাম নেই।
মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা মমতাজ বেগমের মামলার এজাহার ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে বলেন, ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা করা হয় নলবুনিয়ায়, পাড়েরহাটে নয়। হত্যার তারিখও ভিন্ন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ৮ মে মাওলানা সাঈদী ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা করেছেন। আর মমতাজ বেগমের এজাহারে উল্লেখ রয়েছে ১ অক্টোবর। মমতাজ বেগম এখনও জীবিত কিন্তু তাকে সরকারপক্ষে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয়নি।
মমতাজ বেগম স্বামী হত্যা মামলায় যাদের আসামি করেছেন, তারা হলেন—দানেশ মোল্লা, আতাহার আলী, আশ্রাব আলী, আবদুল মান্নান, আইউব আলী, কালাম চৌধুরী, রুহুল আমিন, আবদুল হাকিম মুন্সি, মমিন উদ্দিন, সেকেন্দার আলী শিকদার, শামসুর রহমান এসআই ও মোসলেম মাওলানা। আসামিদের তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। এছাড়া পাকিস্তান আর্মিকেও আসামি করা হয়েছিল মমতাজ বেগমের মামলায়।

0 মন্তব্য:

একটি নতুন মন্তব্য যোগ করুন

মন্তব্যে ইউটিউব ভিডিও যোগ করতে [youtube]YOUTUBE-VIDEO-URL[/youtube] ও ছবি দিতে [img]IMAGE-URL[/img] কোড বসান

যুদ্ধাপরাধের বিচার

সকল পোস্ট

ইমেইলে গ্রাহক হোন

আসসালামু আলাইকুম। এই ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। ব্লগটি পছন্দ হলে একে ছড়িয়ে দিতে লাইক দিন। নির্দিষ্ট কোন পোস্ট সোশ্যাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করতে পোস্টে পবেশের পর সোশ্যাল শেয়ার আইকনে ক্লিক করুন। ব্লগটির মানোন্নয়নে আপনার সুচিন্তিত পরামর্শ দিতে পারেন। (ক্লিক করুন)
 
 
 

ভিডিও গ্যালারি

ছাত্রলীগ

সকল পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগ-ফেসবুক

sharethis

ছাত্রসংবাদ