কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট প্রথম পাতা
ভিজিট করুন আমার নতুন ও স্হায়ী ব্লগ www.alomoy.com/

রসদ, ভাতা ও মালপানি বন্ধে ক্রমেই বন্ধ হয়ে যাবার পথে গণজাগরণ মঞ্চ

মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি এবং রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তির অভিযোগে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন পৃষ্ঠপোষকরা। এ কারণে গত কয়েক দিন ধরে সেখানে খাদ্য, পানীয়, ওষুধ, জনবল এবং অর্থ জোগান বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম হতাশায় ভুগছেন শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। গত সপ্তাহে সারা দেশে গণহত্যা এবং তৌহিদি জনতার প্রতিক্রিয়া দেখে কয়েক দিন ধরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়েই মঞ্চ ফেলে যার যার মতো বাড়ি চলে যাচ্ছেন তারা। তবে সরকারের নির্দেশে শাহবাগে স্থাপিত স্থায়ী মঞ্চ পাহারায় দিনরাত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন পুলিশ।

গণজাগরণ মঞ্চের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে একজন উদ্যোক্তা বলেন, শুরুর দিকে যেসব উৎস থেকে খাবার-দাবার আসতো তার প্রায় সবগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে। প্রথম দিকে যারা অতি উৎসাহে সশরীরে এসে টাকা দিয়ে গেছেন তাদের কাছে এখন বারবার চেয়েও কিছু পাওয়া যায় না। তা ছাড়া আগে যারা স্ব-উদ্যোগে বিভিন্ন ব্যবসায়ী-শিল্পপতির কাছ থেকে টাকা-পয়সা এনে দিতেন তারাও চুপসে গেছেন। মঞ্চের কর্মীরা এখন সারা দিনে এক বেলা খাবারও পান না। দিনের পর দিন খাটা-খাটনিতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় জাগরণ মঞ্চ চালিয়ে রাখতে গিয়ে আমাদের অনেকেই এখন হতাশ।

হতাশার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা অনেক আশা-ভরসা করে ডা: ইমরান এইচ সরকারকে মুখপাত্র বানিয়েছি। কথা ছিল জাগরণ মঞ্চ চলবে সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তে। কিন্তু এখন তিনি একক নেতা হয়ে গেছেন। বড় বড় বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রনায়কোচিত ফরমান জারি করছেন। এতে জনমনে বিভ্রান্তিও ছড়াচ্ছে। বক্তৃতা শেষ করেই তিনি পাজেরো হাঁকিয়ে সামনে-পেছনে স্কর্ট নিয়ে হোটেলে চলে যাচ্ছেন আর সাধারণ কর্মীরা রোদে পুড়ছেন। ১৪ দলভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে জনবল সরবরাহের কথা থাকলেও তারা কথা রাখছেন না। কর্মীদের বাদ দিয়ে তাদের নেতারাই কেবল মঞ্চে আসেন বক্তৃতা দেয়ার জন্য। তিনি প্রশ্ন করেন, এভাবে কোনো গণ-আন্দোলন বেশি দিন চলতে পারে?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা ডা: ইমরানের বেপরোয়া বক্তব্য এবং বিলাসী জীবনযাপনই তার সহকর্মীদের হতাশার বড় কারণ। তা ছাড়া ঢাকা শহরের যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এত দিন কাস ছুটি দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছিল অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে সেটিও এখন বন্ধপ্রায়। তাদের বক্তব্য, এমনিতেই টানা হরতালে বেশির ভাগ দিন কাস নেয়া যাচ্ছে না। যে কয়টা দিন পাওয়া যাচ্ছে সে দিনগুলোতেও ছাত্রছাত্রীদের শাহবাগে পাঠালে তাদের শিক্ষা জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেরানীগঞ্জের একজন শিল্পোদ্যোক্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, কারখানায় কাজের ধরনের কারণেই আমাকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক নিতে হয়। দৈনিক ভিত্তিতে নিযুক্ত এসব শ্রমিককে প্রতিদিন কাজ শেষে ৪০০ টাকা হারে মজুরি দেয়া হয়। কিন্তু গত একটি মাস ছিল আমাদের জন্য চরম দুর্দিন। ১০০ টাকা বাড়তি দামেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল না। এসব শ্রমিক শাহবাগে গিয়ে দিনে ৩০০ এবং রাতের জন্য ৫০০ টাকা হারে মজুরি পাচ্ছিল জানিয়ে ওই শিল্পোদ্যোক্তা বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ওই শ্রমিকেরা আবার ফিরে এসেছে। সম্ভবত ওখান থেকে আগের মতো টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।

গণজাগরণ চত্বরের হতাশার চিত্র ফুটে উঠছে গণমাধ্যমেও। যেসব টিভি চ্যানেল শুরুর দিকে অনেক দূর থেকে ক্যামেরা তাক করে গণজমায়েতকে জনসমুদ্র দেখানোর চেষ্টা করত তারা এখন ক্যামেরা ধরছে কেবলই ডাক্তার ইমরান ও তার আশপাশের নেতাদের মুখের ওপর। যেসব পত্রিকা খাবার সরবরাহ করত, জনবল সরবরাহ করত, পত্রিকার পাতা গণজাগরণ মঞ্চের জন্য উজাড় করে দিতো তারা এখন প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের সংবাদ পেছনের পাতায়, কেউবা সিঙ্গেল কলামে প্রকাশ করছেন।

প্রথম দিন থেকে শাহবাগে দায়িত্ব পালন করে আসা একজন পুলিশ অফিসার নাম প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, এত বড় একটা আন্দোলনের উত্থান-পতন দুটোই দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। অনেক ভালো মানুষও একান্তই মনের টানে এখানে এসেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক খারাপ মানুষও এ চত্বরকে নিজেদের অপকর্মের স্থান হিসেবে ব্যবহার করেছেন। পুলিশের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেয়া না হলে এ চত্বর এক দিনও টিকতো না দাবি করে তিনি বলেন, এখন তাদের পুলিশ পাহারা দিয়েও রাখা যাচ্ছে না। কারণ, গণজাগরণ চত্বরের উদ্যোক্তারাই এখন চরম হতাশায় ভুগছেন।

1 মন্তব্য:

নামহীন বলেছেন...

আহা গণজাগরণ

একটি নতুন মন্তব্য যোগ করুন

মন্তব্যে ইউটিউব ভিডিও যোগ করতে [youtube]YOUTUBE-VIDEO-URL[/youtube] ও ছবি দিতে [img]IMAGE-URL[/img] কোড বসান

যুদ্ধাপরাধের বিচার

সকল পোস্ট

ইমেইলে গ্রাহক হোন

আসসালামু আলাইকুম। এই ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। ব্লগটি পছন্দ হলে একে ছড়িয়ে দিতে লাইক দিন। নির্দিষ্ট কোন পোস্ট সোশ্যাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করতে পোস্টে পবেশের পর সোশ্যাল শেয়ার আইকনে ক্লিক করুন। ব্লগটির মানোন্নয়নে আপনার সুচিন্তিত পরামর্শ দিতে পারেন। (ক্লিক করুন)
 
 
 

ভিডিও গ্যালারি

ছাত্রলীগ

সকল পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগ-ফেসবুক

sharethis

ছাত্রসংবাদ